রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২০

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সঠিক উপায়

 
 
পুষ্টিবিজ্ঞানী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সবার মুখে একটাই কথা কিভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো যায়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও উন্নতি করতে হলে অবশ্যই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার রাখতে হবে। হাতের নাগালে পাওয়া সবচেয়ে সস্তা এবং পুষ্টিকর খাবারের মধ্যে দুধ হল অন্যতম। অথচ মানুষের সচেতনতার অভাবে অনেকেই এই পুষ্টি সম্পুর্ণ খাবারটি কথা জেনেও গুরুত্ব দেয় না
                     
একটা সময় ছিল মানুষের চাহিদা অনুপাতে দেশে দুধের ঘাটতি ছিল। বর্তমানে হাজারো পশু বিজ্ঞানী এবং ডেইরি খামারিদের অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশ এখন দুধের স্বয়ংসম্পূর্ণ। তার বাস্তব প্রমান পাওয়া যায় DLS এর তথ্য মতে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় তথ্য মতে ২০০৮ থেকে ২০০৯ এদেশের দুধ উপাদান ছিল ২২.৯লক্ষ মেট্রিক টন। ২০১৮_২০১৯ এ এসে দাঁড়ায় ৯৯.২৩ লক্ষ মেট্রিক টন। এই সহজ পরিসংখ্যান বলে দেয় দুধ আমাদের সকল মানুষের জন্য কতটা সহজলভ্য। পশু বিজ্ঞানীদের অবদানের কারণে দুধ হল আমাদের দেশের সবচেয়ে সস্তা পুষ্টিকর আদর্শ প্রাণীজ খাবার। দুধের গুনাবলি সম্পর্কে আমরা অবগত নয় বলে প্রত্যেকদিন বাইরে বিভিন্ন রকম দামি রঙিন খাবার খাই। নিজের শরীর নিজে কুড়াল মারি। এইসব রঙিন খাবারের ফলে প্রেসার, ডায়াবেটিস, মানসিক অশান্তি লেগেই থাকে। যে পুষ্টিসম্পন্ন খাদ্য গ্রহণ করবে তার উপর ভালো প্রভাব পড়বে।আরজে রঙিন অপুষ্টি জাতীয় খাবার গ্রহণ করবে তার ওপর এর খারাপ প্রভাব পড়বে এটাই স্বাভাবিক। অথচ হাতের কাছে পাওয়া দুধের উপকারিতা আমার কাজে লাগাতে পারি না।চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে দুধই হতে পারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো একমাত্র হাতিয়ার। অসংখ্য পুষ্টির সমন্বয় দুধ গঠিত। দুধকে বলা হয় সুপার ফুড। দুধে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি, বি ১২, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, প্রোটিন, নিউ সিন, রিবোফ্লাভবন, আয়রন, জিংক, ম্যাঙ্গানিজ ও কপার।
                    
 #"মানুষের শরীর একটি দুর্গ বিশেষ। একে শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে হলে শরীর চর্চার মাধ্যমে অবশ্যই সুদৃঢ় করতে হবে "
   
#দুগ্ধজাত খাবার:
                           দুগ্ধজাত খাবার গুলো বিজ্ঞানের ভাষায় প্রবায়টিকস হিসেবে পরিচিত যেমন-দই, ঘোল, ছানা ইত্যাদি ।মানুষের পাকস্থলীতে যে আবরণ আছে সেটার ভিতরে বেশ কিছু উপকারী জীবাণু কার্যকরী হয়। বাংলাদেশে একজন চিকিৎসক হাসান শাহরিয়ার কল্লোল বলেন,"পাকস্থলীতে যদি উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমে যায় তখন সেখানে ক্যান্সার বাসা বাঁধতে পারে।"
                             দুধজাত খাবারগুলো পাকস্থলী তে উপকারী জীবাণু কে বাঁচিয়ে রাখে।ভিটামিন ডি এর জন্মদিনের কিছুটা সময় শরীরের রোদ্দুর লাগাতে হবে। এটা খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনাচরণের সাথে সম্পৃক্ত।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নাজমা শাহীন বলেন ,"যার শরীরের গঠন ভালো এবং সেখানে কোনো ঘাটতি থাকবে না তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হবে।
তিনি বলেন যেমন শিশু জন্মের পর থেকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ালে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

১.দুধ ক্যালসিয়ামের সবচাইতে ভালো উৎস।আজকাল পেশীর ব্যথা ও দাঁতের ক্ষয় সব বয়সের লোকের মধ্যে দেখা যায়।নিয়মিত দুধ খেলে দুধে থাকা ক্যালসিয়াম আমাদের দাঁত ও হাড়ের গঠন মজবুত করে।এছাড়াও দুধে থাকা ক্যালসিয়াম ভিটামিন বি এর সাহায্যে পেশীর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে এবং পাশাপাশি আমাদের বেশি মজবুত করে।

২.একটা সুস্থ মানুষের শরীরে প্রোটিন যে এত দরকার তা হয়তো আমরা অনেকেই জানিনা।২১ধরনের অ্যামাইনো এসিড এর সমন্বয় প্রোটিন তৈরি হয় যার মধ্যে ৯টি আমাদের শরীরে তৈরি হয় না। আর এই ঘাটতি পূরণ করতে দুধের কোন বিকল্প নাই।

৩.কোলেস্টেরল নিয়ে আমরা সবসময়ই চিন্তায় মগ্ন থাকি।আমাদের সবার মনে একটা ভুল ধারণা বাসা বেধেছে যে কোলেস্টেরল শরীরের জন্য ক্ষতিকর। দুধে যে প্রোটিন থাকে তা খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে। অধিবিদ্যা মান ভিটামিন বি ১২ত্বকে নমনীয়তা বজায় রাখে সাহায্য করে ফলে অল্প বয়সে চামড়া ঝুলে যায় না ত্বক উজ্জ্বল হয় এবং তারুণ্যে ভরপুর থাকে।
৪. হাতে রক্ত চলাচল সচল রাখতে নিয়মিত দুধ খাওয়া খুবই জরুরী। দুধে বিদ্যমান থাকা ভিটামিন এ বি ও ক্যালসিয়াম যা আমাদের হার্টে রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয় এবং হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
৫. হৃদপিন্ডের পেশী সুস্থ্যতা বজায় রাখতে দুধের বিদ্যামান পটাশিয়াম এর গুরুত্ব অপরিসীম। তাছাড়া দুধে উপস্থিত খনিজ উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখে এবং হৃদপিণ্ড সতেজ রাখে।
৬. দুধে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাটি এসিড ও অ্যামাইনো এসিড। চুলে পুষ্টি জোগাতে চুল সুন্দর ও মজবুত রাখতে দুধের ভূমিকা অপরিসীম।
৭. গর্ভাবস্থায় মায়ের জন্য অত্যন্ত উপকারী। দুধে বিদ্যমান আয়োডিন ভ্রুণের মস্তিষ্ক বিকাশের ভূমিকা পালন করে। তাছাড়া দুধে প্রোটিন, অ্যামাইনো এসিড,ফ্যাটি এসিড শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশের জন্য প্রয়োজন।
৯.শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং হজম শক্তি বৃদ্ধিতে দুধের ভূমিকা অনন্য।সারাদিনের মানসিক চাপ দূর করে শান্তির ঘুম নিশ্চিত করতে দুধ হতে পারে প্রধান হাতিয়ার।
            
 #দুধ আল্লাহর প্রদত্ত এমন নেয়ামত যা সবাই সহজে হজম করতে পারে।প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে দুধের গুরুত্ব এতটাই অপরিহার্য যে ইসলাম ধর্মেও দুধের গুণাগুণ সম্পর্কে বলা হয়েছে।বর্তমান সময়ে চিকিৎসা বিজ্ঞান দুধের যে গুরুত্বের কথা বলে সে গুরুত্বের কথা ইসলাম আজ থেকে বহু বছর আগে ঘোষণা করেছেন।
             সকল মানুষের সেরা মানুষ আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম। তিনি দুধ খুব পছন্দ করতেন। তার প্রমাণ পাওয়া যায় মেরাজের রাতে। আনাস ইবনে মালিক (রা:)থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেন মেরাজের রাতে হযরত ইব্রাহিম আ: সম্মুখে তিনটি পেয়ালা তুলে ধরেন।অ্যাক্টিভ পেয়ালায় দুধ একটি তে মধু আর অন্যটিতে শরাব ছিল। আমি দুধের পেয়ালা গ্রহণ করলাম এবং ফান করলাম।তখন আমাকে বলা হল আপনি এবং আপনার উম্মার স্বভাবজাত বস্তু গ্রহণ করেছেন।সহজে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর এবং সস্তা পুষ্টিকর খাবারের তালিকায় দুধকে পরিপূরক খাদ্য হিসেবে নয় মূল খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।আল্লাহ প্রদত্ত যতগুলো খাবার দেখি তার মধ্যে দুধ হল সবচেয়ে বেশি পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর।শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য দুধের কোন বিকল্প নেই। তাই সব সময় মন প্রফুল্ল ও সতেজ এবং শরীরকে চাঙ্গা রাখতে হলে সব বয়সের মানুষের জন্য দুধ অপরিহার্য।
 
 #চা-কফি কতটা খাবেন??
 অতিমাত্রায় চা-কফি পান করা শরীরের জন্য ভালো নয় বলে সতর্ক করে দিয়েছেন চিকিৎসক মি: কল্লোল।
 "ধরুন একজন ব্যক্তি যদি দিনে ৭ কাপ চা খায় এবং প্রতি কাপে এক চামচ চিনি থাকে তাহলে তিনি কিন্তু প্রতিদিন ৭চামচ চিনি খাচ্ছেন ।এই সাত চামচ চিনি শরীরের জন্য ভয়াবহ বলেছেন মি: কল্লোল।
 চা-কফি তে এমন অনেক উপাদান থাকে যার কোনটি শরীরের জন্য ভালো এবং কোনটি শরীরের জন্য খারাপ।
 
#ভাত বেশি খাবেন না:
 একজন মানুষ প্রতিদিন যে পরিমাণে খাবার খাবেন তার৬০% হওয়া উচিত কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা।
 এরপর ৩০% হতে হবে প্রোটিনএবং ৫% মত থাকবে চর্বি জাতীয় খাবার। মি: কল্লোল বলেন"আমাদের দেশে দেখা যায় শর্করা প্রচুর খাওয়া হচ্ছে কিন্তু সে পরিমাণ প্রোটিন গ্রহণ করা হয় না।তিনি বলেন অতিরিক্ত ভাব বা শর্করা জাতীয় খাবার খেলে সেটি শরীরের ভেতরে ঢোকার পর ফ্যাট বা চর্বি তে রূপান্তর ঘটে।
 
#প্রোটিন:
 প্রোটিন শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা বাড়ায়। রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার শক্তি যোগায়। এই মৌসুমে শরীর সুস্থ রাখতে উন্নত মানের প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতে হবে। ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, ডাল থেকে পেতে পারেন প্রোটিন। তবে লাল মাংস এড়িয়ে যাবেন। ভালো প্রোটিন এর কি উপকার লাল মাংস তা পাওয়া যায় না। প্রোটিনের এই ভোজ হচ্ছে শরীরের ওজনের প্রতি কেজির জন্য এক গ্রাম করে। অর্থাৎ কারো ওজন যদি ৬৮ কেজি হয়, তবে দৈহিক তার ৬৮ থেকে ৭০ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন দরকার।
 
 #ভিটামিন সি:
 শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি দারুণ কার্যকর।ভিটামিন-সি মানবদেহের জন্য অতি প্রয়োজনীয় একটি মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট।ভিটামিন সি ত্বক ও চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে।পাশাপাশি এটি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।যা মানব দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে হূদরোগ ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। এই ভিটামিন পরিচিত ফল এবং বিভিন্ন শাক সবজি যেমন: আমলকি, লেবু, কমলালেবু, পেয়ারা, জাম্বুরা, আমরা, পেঁপে, কাঁচা মরিচ ইত্যাদি তে প্রচুর পরিমাণে থাকে।তবে যেহেতু আমাদের শরীরে ভিটামিন সি জমা করে রাখতে পারে না তাই প্রতিদিন গ্রহণ করা প্রয়োজন। পূর্ণবয়স্ক পুরুষের দৈহিক ৯০ মিলিগ্রাম এবং নারীর ৮০ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি দরকার।
 
 #ভিটামিন বি ১২:
 রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও রোগ থেকে দ্রুত সেরে উঠতে ভিটামিন বি ১২ দারুণ কার্যকর। বিভিন্ন দুগ্ধজাত খাবার ডিমের ভিটামিন বি ১২ পাওয়া যায়। তবে যারা নিরামিষাশী তার শরীরে ভিটামিন বি ১২এর অভাব পূরণে চিকিৎসকের পরামর্শমতো সম্পূরক নিতে পারেন।
 
ভ্রমণের মৌসুম শুরু হয়ে গেছে এই মৌসুমের শরীর ঠিক রাখতে দরকার প্রয়োজনীয় পুষ্টি।ভ্রমণের অধিক ধকল ও শরীরের পুষ্টি কমে যাওয়ায় অনেকেই নতুন করে ভ্রমণে অনীহা দেখান। তাই চলতি মৌসুমে পরিপ্রেক্ষিতে শরীর সুস্থ রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

চুলের যত্নে কার্যকরী টিপস

  

স্নিগ্ধ মায়াবী চেহারার অধিকারী যে নারী। সব রূপেই নিজেকে দারুনভাবে ফুটিয়ে তুলে সে.. নারীর রূপ প্রকাশ পায় তার সৌন্দর্য্যে আর ঠিক তেমনি সৌন্দর্য প্রকাশ পায় চুলে।

             "বেনীর ভাঁজে 
                  আলতো হাওয়া,
                       জাগায় মনে 
                             প্রেম শিহরণ"
                             আমরা যখনই কোনো ডিজনি সিনেমার রাজকন্যাকে দেখি, তাদের অপরূপ চুল থেকে দৃষ্টি সরানো কষ্টকর হয়ে যায়। এমন চুলের অধিকারী হয়ে সিন্ডারেলা,স্নো হোয়াইট অথবা জেসমিন সাজতে যে কেউই চাইবে কিন্তু তার জন্য তো দরকার সুস্থ এবং উজ্জ্বল চুল।
আমাদের দেশে আবহাওয়ার বর্তমান যে অবস্থা তাতে তো চুলকে সুস্থ রাখতে পারাটা একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ।
চলছে আমাদের স্বাস্থ্যের একটা বড় অংশ এটা আমরা অনেকেই ভুলে যাই। চুলের ওপর নির্ভর করে আমাদের সুস্থতা। চুল যদি ভালো না থাকে পুরো মুখবয়বই হয়ে যাবে রুগ্ন। তাই দেহের জন্য যেমন দরকার "রাইডন্দ-দ্য-ক্লক"যত্ন, দেখভাল আর প্রয়োজনীয় সচেতনতা।
তবে চুলের দেখভাল আর যত্ন নেয়া মানেই কিন্তু দামিশ্যাম্পু আর তেল ব্যবহার করা নয়। চুলের জন্য দরকার সুশৃংখল ডায়েট, চুলের ধরন বুঝে প্রসাধনী ব্যবহার এবং নিয়মিত পরিচর্যা।

চুলে সুস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান একটি সুপরিকল্পীত ব্যালেন্স ডায়েট।যেখানে থাকবে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বিশেষ করে ভিটামিন ই এবং মিনারেল। চুলপড়ার হ্রাস, চুলে গ্রহ এবং উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য কিছু খাবার আছে যা নিয়মিত গ্রহণে চুল থাকে সুস্থ ।এসব খাদ্যগুলো হলো সবুজ  শাক-সবজি , ডিম, বাদাম, মাছ ইত্যাদি। চুলের গ্রোথ এর জন্য প্রয়োজন প্রোটিন, ফ্যাট, জিন্ক, মসুর, রাজমা, ছোলা ইত্যাদি ডাল ও খেতে পারেন।

রোজ তেল আর শ্যাম্পু ব্যবহার না হলে বিউটি পার্লারে হেয়ার স্পা হেয়ার প্যাকে ও ফলাফল শূন্য। ঠিক কি কারণে এমনটা ঘটছে বুঝে উঠতে পারছেন না? তাহলে মাথা ঠান্ডা করে একটু ভাবুন। আপনার সাধের চুল ঠিকঠাক পুষ্টি পাচ্ছে তো?গাছ যেমন শিকড় দিয়ে মাটি থেকে জল শুষে খাবার পায়, চুল ও তেমন চুলের গোড়া থেকে খাবার পায়।তাই জরুরি হলো চুলের বৃদ্ধি বা গ্রোথ যেন ভালো হয় এর ব্যবস্থা করা। এজন্য শুধু বাইরের ট্রিটমেন্ট সমাধান নয়। ভেতর থেকেও প্রয়োজন পুষ্টিকর খাবার।

ত্বকের খুঁত আপনি মেকআপ দিয়ে ঢেকে ঢুকে রাখতে পারবেন। কিন্তু চুলের কোন সমস্যা তৈরি হলে বা একবার পাতলা হতে আরম্ভ করলে পুরনো স্বাস্থ্য ফিরিয়ে নিয়ে আসা খুব মুশকিলের ব্যাপার। চুল ভালো রাখার জন্য তেল মাখা, সেরা মানের শ্যাম্পু কন্ডিশনার ব্যবহার, নিয়মিত স্পা করার পাশাপাশি সঠিক ডায়েট মেনে চলাও একান্ত প্রয়োজন।

চুল পড়ে যাচ্ছে! জৌলুসভা হারাচ্ছে রুক্ষতায়! মনে হচ্ছে চুলের তেলের বিজ্ঞাপন? নাহ, অযত্নে এবং অবহেলা আমাদের আদরে চুলগুলো হাল ঠিক এমনটাই হয়। চুলকে শুধু সৌন্দর্য একটি অংশ না ভেবে সুস্থ দেহের একটি অংশ ভাবলে তার বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি বাড়াবে মানসিক প্রশান্তি ও।

চুলের বৃদ্ধি ধরে থাকতে শুধু নয় চুলের আগা ফাটা,চুল পড়া বন্ধ করতেও খুব দরকারি হলো ভিটামিন সি আর এর শতভাগ পূর্ণ করতে সাহায্য করবে গোলমরিচ। এবং চুলে ভিটামিন ই সরবরাহ করতে চোখ বন্ধ করে আভাকোডা খেতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে যে 'ভিটামিন ই'নিলে চুলের গ্রোথ ৩৪.৫ % মত বেড়ে যায় ।এটি চুলের ফলিকল শক্ত করে।
চুলের ফলিকল গঠনকারী প্রোটিন তাইতো সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য প্রোটিনের জোগানটা অব্যাহত রাখা একান্ত প্রয়োজনীয়। প্রোটিনের অভাব হলেই গোড়া থেকে আলগা হয়ে চুল পড়তে আরম্ভ করে। মাথার তালুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রয়োজন হল জিন্ক, আয়রন ভিটামিন বি এর। ভিটামিন এ আর সি স্ক্যাল্পে অক্সিজেনের পরিমাণ অব্যাহত রাখে।

#কেন চুলের সুস্থতার জন্য প্রোপার ডায়েট প্রয়োজন?

চুল যদি শরীর থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগার করতে না পারে তাহলে চুলের স্বাস্থ্য খারাপ হতে থাকে। চুলে সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রপার ডায়েট ম্যান্ডেটরি। অনেকে অভিযোগ করে থাকেন জেনেটিক্যালি সুন্দর চুল নিয়ে জন্মালেও একটা সময় এসে চুল লালচে হয়ে যাচ্ছে ,আগা ফেটে যাচ্ছে।আবার অনেকেই হেয়ার কেয়ার এর ব্যপারে খুব সচেতন দামি প্রোডাক্ট দিয়ে চুলের যত্ন নেন, নিয়ম মতো প্যাক লাগান,। তারপরও চুল প্রাণহীন অকালেই পেকে যাচ্ছে বা চুল পড়ে যাচ্ছে। মেইন প্রবলেমটা কোথায় সেটা বুঝতে পারছেন কি? পুষ্টিহীনতা! নিউট্রিয়েন্টের  অভাবে চুল দুর্বল হয়েছে এবং বাইরে থেকে দেখতে মলিন লাগে।

#চুলের সুস্থতার জন্য খাদ্য উপাদান এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে এবং রেগুলার ডায়েটে কোন খাবারগুলো অবশ্যই রাখা উচিত??

ডিম তো সবারই প্রিয়। প্রতিদিন একটা ডিম খেয়ে নিন। ডিমে থাকা বায়োটিন চুলের আগা ফাটা রিপেয়ার করে। গোড়ায় গিয়ে চুলের পুষ্টি জোগায়। চুলকে ঝলমলে করে গড়ে তুলতে কাজু, পেস্তা, আমন্ড বা আখরোট যে কোন মাদামই খেতে পারেন। চুলের স্বাস্থ্য ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন বিনস মটরশুঁটি খেতে পারেন।এছাড়া চুলকে ভিতর থেকে মজবুত রাখার জন্য বেশি বেশি মিষ্টি আলু খেতে পারেন। মিষ্টি আলু খেতে যতটা মিষ্টি ততটাই কাজেরও। এর বিটা ক্যারোটিন চুলের নতুন কোষ জন্মাতে সাহায্য করে ।
আপনার স্বাস্থ্য আপনার চুলে প্রতিফলিত হয়। আপনি স্বাস্থ্যকর থাকলে ভালো থাকবে চুল। তাই সুন্দর চুল রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া আবশ্যক। আর তাই আপনার চুলের বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যর জন্য ভিটামিন, প্রোটিন এর মত পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত গ্রহণ করুন।
বেশি বেশি প্রোটিন জাতীয় শাকসবজি চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে এছাড়াও প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। সুন্দর চুলের জন্য যে খুব ব্যয়বহুল লাইফ স্টাইল অথবা প্রোডাক্টস ব্যবহার করতে হয় এমনটা কখনই নয়। শুধু প্রয়োজন নিয়মিত পরিচর্যা আর প্রয়োজন সঠিক পুষ্টির। বেশি চিনি খাবেন না অতিরিক্ত প্রসেসড বা তথাকথিত ফ্যান্সি খাবার ও স্বাস্থ্যের পক্ষে খুব একটা ভালো নয়।

#চুল সুরক্ষিত রাখুন:

সব সময় চেষ্টা করা উচিত চুলকে সূর্যের আলো, রোদ ,বৃষ্টি থেকে সুরক্ষিত রাখা।সূর্যের কড়া রোদ ,ধুলাবালি ইত্যাদি চুলের দুর্দশা ডেকে আনে!
ধীরে ধীরে এরা জমাটবাঁধা শুরু করে চুলের গোড়াতে এবং ফলাফল স্বরূপ শুরু হয় । চুল পড়া নিয়ে ঝামেলা গুলো থেকে রেহাই পেতে খোলা আকাশের নিচে রোদ কিংবা বৃষ্টিতে চলাচলের সময় ছাতা অথবা ক্যাপ পরা উচিত। এমনকি কাপড় কিংবা ওড়না দিয়ে ঢেকে রাখলেও অনেকাংশে চুল সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

#ভেজা চুল কে সাবধানে ট্রিট করুন:

ভেজা চুল সবথেকে ভঙ্গুর অবস্থায় থাকে।ভেজা অবস্থায় থাকাকালীন সময়ে চুলের গোড়া থেকে চুল ভেঙে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ তাই শ্যাম্পু করার সময় চুল বেশি চাপ প্রয়োগ করা উচিত নয় ।এছাড়াও গোসলের পর পরই চুলে চিরুনি ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত।

#তেল দিন নিয়মিত:
চুলে নিয়মিত তেল ব্যবহারে শক্ত হয় চুলের গোড়া তবে তা যেন আবার অতিরিক্ত না হয়ে যায়।অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করলে তা মুছে ফেলতে ব্যবহার করতে হবে অতিরিক্ত শ্যাম্পু চুলের জন্য ভালো নয়।

সঠিকভাবে শ্যাম্পু করুন সপ্তাহে ৩/৪ দিন ভালো শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করুন। নিয়মিত কন্ডিশনার ব্যবহার করুন এতে চুল মসৃণ হয় ফলে ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়। একই ধরনের হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন।চুলের যত্ন নেয়ার সময় একই কোম্পানির অনুরূপ উপাদান তৈরী প্রোডাক্ট ব্যবহার করা উচিত। এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই আপনার চুলের যত্ন নিতে পারবেন। অতিরিক্ত হিট দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। অতিরিক্ত হিটের কারণে চুল চলে যেতে পারে তাই ব্লোয়ার আয়রন অথবা চুল স্ট্রেটনার যদি ব্যবহার করতেই হয় তাহলে সাবধানতার সাথে তা করা উচিত।অনেকেই চুলকে মোছার সময় খুব চাপ প্রয়োগ করে চুল মুছে থাকে এতে বারবার ঘর্ষণের ফলে চুল তার সুস্থতা হারিয়ে ফেলে গোড়া থেকে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ভালো বালিশের কভার ব্যবহার করুন।

শুনতে একটু আশ্চর্য লাগলেও এ কথা 100% সত্যি যে নিয়মিত ব্যায়াম করলে চুল ভালো থাকে।তাই স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুলের মালিক হওয়ার জন্য ডিসিপ্লিন মেনে চলুন।

বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বিবাহের সময় বিবেচ্য বিষয় - ইমোশনালি প্র‍্যাক্টিক্যাল হবেন না, প্র‍্যাক্টিক্যালি ইমোশনাল হোন

 রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর দুই মেয়েকে বিয়ে দেন মক্কার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির কাছে, অন্যদিকে তাঁর ছোটো মেয়েকে এমন একজনের সাথে বিয়ে দেন, যার মোহরানা দেবার মতো সামর্থ্য ছিলো না। 

 রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন পাত্রদ্বয়ের সাথে নিজের মেয়েকে বিয়ে দেন, যারা ছিলেন- দ্বীনদার, চরিত্রবান, জ্ঞানী এবং বিচক্ষণ। ‘পাত্র ধনী কি-না’ এটা শর্ত ছিলো না। পাত্র যদি দ্বীনদার, চরিত্রবান, জ্ঞানী এবং বিচক্ষণ হবার পাশাপাশি ধনী হয়, তাহলে তো নুরুন আলা নুর, ভালোর উপর ভালো। 


আল্লাহ পবিত্র কুর’আনে বলেনঃ “তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষ ও সৎকর্মশীল দাস-দাসীদের বিয়ে দিয়ে দাও। তারা অভাবী হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দিবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও মহাজ্ঞানী।” [সূরা আন-নূরঃ ২৪:৩২] 


সমাজ বলে ‘চাকরি না পেয়ে বিয়ে করবা কেন?’ বাবা-মা বলে, ‘বিয়ে করে বউকে কী খাওয়াবা?’ মেয়েপক্ষ বলে, ‘ছেলে সরকারি চাকরি করে কি-না?’ এগুলো বলে বিয়েকে সমাজে ‘লকডাউন’ করে রাখা হয়েছে। সবগুলো প্রশ্নের মূল প্রশ্ন একটাই- রিযিকের চিন্তা। 


অথচ আল্লাহ বিয়ের ব্যাপারে ‘গ্যারান্টি’ দিচ্ছেন- বিয়ে করো, রিযিক নিয়ে ভয় পাবার কোনো কারণ নেই, অভাবী হলে আমি অভাবমুক্ত করবো (তাই বলে বিয়ে করে ঘরে বসে থাকবেন, আল্লাহ রিযিক দিয়ে দিবেন, এটাও না)।


সমাজের মুডকে আমরা ‘গড’ বানিয়ে নিয়েছি। সমাজের মুড যতোটা ইসলামের সাথে যায়, ততোটা মানছি। সমাজের যেই মুড ইসলামের সাথে যায় না, সেক্ষেত্রে আমরা ইসলাম ছেড়ে সমাজকে মানা শুরু করি। ক্রমে আমরা হয়ে উঠি সমাজপুজারী! 


অভাবগ্রস্ত সাহাবী একজন আরেকজনের কাছে গিয়ে সাজেশন চাইতেন। “কী করবো বলো?” তখন একজন বলতেম, “তুমি কী বিয়ে করেছো?” উনি যদি ‘না’ বলতেন তাহলে উপদেশদাতা বলতেন, “তুমি বিয়েই করোনি, তাহলে তুমি অভাবমুক্ত হবে কিভাবে? তুমি কি কুর’আনে পড়োনি, অভাবমুক্ত হবার একটা উপায় হলো বিয়ে করা?” তারপর ঐ সাহাবী গিয়ে বিয়ে করতেন, দেখা যেতো কিছুদিন পর তিনি অভাবমুক্ত হয়ে যেতেন।


কিন্তু, আমাদের সমাজ শেখায়, আগে স্বচ্ছল হও, বউকে খাওয়ানোর মতো টাকা-পয়সা জমাও, তারপর বিয়ের নাম নিও। তাহলে, সেই সমাজকে জিজ্ঞেস করুন, কুর’আনের ২৪:৩২ আয়াতটি নিয়ে তোমার ‘তাফসীর’ কী? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের সবচেয়ে আদরের মেয়ে ফাতিমাকে (রাঃ) একজন অভাবগ্রস্তের হাতে তুলে দিয়েছেন, এটার ব্যাখ্যা কী? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর প্রিয় সাহাবী যুলাইবিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু), যার হাতে কানাকড়ি ছিলো না, তাঁর জন্য বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছেন, এটার ব্যাখ্যা কী? 


সমাজ এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে ব্যর্থ হবার পরও যদি আপনি সমাজের সাথে সুর মিলিয়ে চলেন, তাহলে আপনাকে আরো দুটো কথা বলে আমি লেখাটি শেষ করছি। 


যারা প্রাপ্ত বয়স্ক হবার পরও বিয়ে করতে পারছেন না, তাদেরকে যে ক্যাটাগরিতে রাখা যায় তারা রোজা রেখে সংযম করছেন, 


যদি সিক্স ডিজিট স্যালারির কোনো সফল পুরুষকে বিয়ে করেন তাহলে শুধু এই প্রাপ্তির জন্যই আপনাকে অনেক কিছু ত্যাগ করতে হবে। প্রথম ত্যাগ করতে হবে আপনার প্রিয় কিছু স্বপ্নকে।


লাখ টাকা বেতন প্রাপ্ত সফল মানুষটাকে ছাত্রাবস্থায় প্রচুর পড়তে হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা টেবিলে বসে থাকতে হয়েছে। মাসের পর মাস রাত জাগতে হয়েছে। ফলে তার চোখের নিচে থাকবে স্থায়ী কালশিটা, চোখে থাকবে মোটা ফ্রেমের চশমা। মাথার অর্ধেক হবে টাক এবং দেখার মতো একটা ভুঁড়ি থাকবেই থাকবে।

আপনি একই সঙ্গে স্পাইক চুল, সিক্স প্যাক ফিগার, স্টাইলিশ সানগ্লাস আর ডানাকাটা চোখের অধিকারী কোনো সিক্স ডিজিট আর্নড পারসন পাবেন না।


সিক্স ডিজিট আর্নড পুরুষ দারুণ সচেতন হবে। সে কবির সিংয়ের মতো বাইক চালানোর সময় কিংবা গাড়ি চালানোর সময় তিন মিনিটের চুমুর আনন্দের চেয়ে তিন যুগ বেঁচে থাকার আনন্দকে প্রাধান্য দেবে। ফলে আপনার মনে হতে পারে, দুনিয়ার আনরোম্যানটিক মানুষকে সঙ্গী হিসেবে পেয়েছেন। আপনি ভুল মানুষের সাথে আছেন।

তার অবশ্যই সকালে অফিস থাকবে। ফলে বৃষ্টি দেখে ছাদে চলে যাওয়া কিংবা ব্যালকনিতে বসে পূর্ণিমা উদযাপনের চেয়ে রাতে নিত্যদিনের কাজটা সেরে ফ্রেশ একটা ঘুম দিয়ে রিল্যাক্স মুডে অফিসে যাওয়াটা
জরুরি মনে হবে। ফলে আপনার মনে হবে আপনি শুধুই ভোগের বস্তু। উপভোগ বলে কিছু নেই আপনার জীবনে।


লাঞ্চ টাইমে তার মিটিং থাকবে। মিটিং হবে জুনিয়র কিংবা সিনিয়র কলিগদের সাথে। যাদের সামনে তাকে পারসোনালিটি বজায় রাখতে হয়। ফলে দুপুরে ফোন দিয়ে ‘কী খেয়েছো’ জিজ্ঞেস করলে সে চেয়ারে হেলান দিয়ে আহ্লাদে গদগদ হয়ে বলবে না, কচুর লতি দিয়ে চিংড়ি মাছ খেয়েছি। সে ডানে বামে তাকিয়ে বলবে- রাখো, পরে কথা বলছি। মিটিং শেষে তাকে এমন সব কাজ করতে হবে যে বেশিরভাগ দিন পরে আর কথা বলা হয়ে উঠবে না।


সিক্স ডিজিট স্যালারির পারসনকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সারাদিন এক গাদা স্টাফকে পরিচালনা করতে হয়। কিংবা পরিচালিত হতে হয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্বারা। ফলে বাসায় ফিরবে সে মেজাজ খারাপ নিয়ে। এমন সময়ে তুমি যদি মুনমুন মুখার্জির মতো দুনিয়ার আবেগ তাহেরির মতো ঢেলে দিয়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতা ‘ভালোবাসি ভালোবাসি’ আবৃত্তি শুরু করো, সে গলায় সেক্স অ্যাপিল এনে বলতে পারবে না ‘ভালোবাসি তোওওও ভালোবাসিইইই’। সে একটু বিরক্তই হবে।


আপনি একইসাথে গ্রামের নির্মল বায়ু আর শহরের সুযোগসুবিধা পাবেন না। আপনাকে যে কোনো একটা বেছে নিতে হবে। হয় অর্থ-বিত্ত নয়তো স্বস্তির জীবন। হয় ভোগ নয়তো উপভোগ। আপনি যেটাকে প্রাধান্য দেবে সেটা নিয়ে সুখে থাকেন। অন্যটা দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলতে যাবেন না। তাহলে দেখবেন জীবনে মরীচিকা ছাড়া আর কোনো অর্জন নেই।


অতএব, ইমোশনালি প্র‍্যাক্টিক্যাল হবেন না, প্র‍্যাক্টিক্যালি ইমোশনাল হোন।

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০

কেমন হবে শিশুদের সাথে আপনার আমার ব্যবহার

 

একটি শিশুর কাছে বাবা রিয়েল হিরো মা সবচেয়ে ভরসার জায়গা। শিশুটির বিশ্বাস তার বাবা মা কখনো ভুল করে না। তারা যা বলেন করেন এবং ভাবেন সব সঠিক। শুভ্র সুন্দর হয় শিশুদের মন আর খুব স্বাভাবিক ভাবে শিশুরা খুব অনুকরণ প্রিয় হয়ে থাকে সেই সাথে প্রিয়জনের কাছ থেকে শেখা বিষয়গুলো তারা মনেও রাখে বেশি। একটি শিশুকে পূর্ণভাবে গড়ে তোলার জন্য মা-বাবার ভূমিকাই প্রধান। তার হাঁটাচলা থেকে শুরু করে কথা বলা,নিয়মানুবর্তিতা, পড়াশুনা, ঘরের টুকিটাকি কাজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের উৎসাহ তাকে অনুপ্রেরণা জোগায়। শিশুর সঙ্গে আপনি কেমন ব্যবহার করবেন? মনে রাখবেন আপনার আচরণের ওপর নির্ভর করে আপনার সন্তানের ভবিষ্যত। কখনো কখনো দায়িত্বশীল মা বাবাও ব্যাপারে ভুল করে থাকে।তাদের ভুলের জন্য নষ্ট হতে পারে তাদের সন্তানের জীবন।

         "ছোট্ট ওরা চপল শিশু

          ভোরের প্রতিচ্ছবি

          সবুজ মনের অবুঝ শিশু

          অই আকাশের রবি"

'গড়তে শিশুর ভবিষ্যৎ স্কুল হবে নিরাপদ'এই প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হওয়া বিশ্ব শিশু দিবস শিশু অধিকার সপ্তাহ ২০১৮ এর দ্বিতীয় দিনে সোমবার অক্টোবর বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শিশুদের নিয়ে সেশন।

        "আমার কথা শোনো"

প্রধান অতিথি মহিলা শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব মাহমুদা শারমিন বলেন, শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে মা-বাবা এবং শিক্ষকের ভূমিকা অনেক শিশুদের সামনে ধূমপান মাদক দ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে।পাশাপাশি টিভিতে শিশুদের নিয়ে সিরিয়াল না দেখে তাদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে সাহায্য করে এমন অনুষ্ঠান দেখা উচিত।

 

#শিশুর সুন্দর আচার-আচরণ গঠনের মূল ভূমিকা পালন করে পরিবার। আর এই ব্যাপারে করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশর গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের 'শিশু বিকাশ সামাজিক সম্পর্ক'বিভাগের সহকারি অধ্যাপক রুমানা বাসর।

তিনি বলেন, 'শিশুকে সুন্দর আচরণ শেখাতে হলে তার সঙ্গে সুন্দর আচরণ করতে হবে' পরিবার থেকেই শেখাতে হবে বড়দের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করতে হয় আর ছোটদের কিভাবে ভালবাসতে হয়।তাছাড়া শিশুরা একটু বড় হলেই বাইরের অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে মেলামেশা করে। ফলে তাদের আচার আচরণে পরিবর্তন আসতে পারে যদি বুঝতে পারেন শিশু খারাপ কিছু শিখছে তাহলে তাকে শোধরানোর চেষ্টা করতে হবে।

 

#প্রথমেই, শিশুকে বাধ্য হয়ে চলার শিক্ষা দিতে হবে।

#বড়দের শ্রদ্ধা ছোটদের ভালোবাসার শিক্ষা দিতে হবে। এসব বিষয় সম্পর্কে উপদেশের মতো শিক্ষা না দিয়ে বাস্তবে করে দেখাতে হবে।

যেমন-আপনি নিজে বড়দের প্রতি বাধ্যও শ্রদ্ধা প্রকাশ করে এবং ছোটদেরকে ভালোবেসে আপনার সন্তানের কাছে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরুন। এতে শিশু তা খুব সহজেই গ্রহণ করবে।

#শিশুর সঙ্গে সব সময় সত্য কথা বলুন তাকে সত্য বলতে উৎসহিত করুন।কোন ভুল করে যদি সে স্বীকার করে তাহলে কড়া শাসন না করে বুঝিয়ে বলুন ভবিষ্যতে যেন এমন কাজ না করে সে বিষয়ে সাবধান করে দিন।

#শিশুরা কোন ভুল করলে তাদেরকে প্রথমে বোঝাতে হবে। ওই জন্য পরে বকা দিতে পারেন। তবে বকা দেওয়ার সময় শিশুকে কোন রকমের আজেবাজে বা অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করা ঠিক নয়।

#শিশুর সঙ্গে বন্ধুর মতো আচরণ করুন তাহলে সে আপনার কাছ থেকে কোনো কিছু লুকাবে না। এবং সকল কথাই সে সাদরে গ্রহণ করবে।

#বাসায় অতিথি এলে শিশুকে তাদের সঙ্গে কথা বলতে সময় কাটাতে উৎসাহিত করুন। এতে ছোট থেকেই তার মধ্যে সামাজিকতার বোধ জেগে উঠবে।

#দিনের নির্দিষ্ট একটি সময় বেছে নিন কেবল শিশুর জন্য। এই সময় অন্য কোন কাজ না করে তার সঙ্গে সময় কাটান। তার সঙ্গে গল্প করুন, আনন্দ করুন, মোটকথা সম্পূর্ণ মনোযোগ তার দিকে দিন।ফলে সে বুঝবে আপনার কাছে তার গুরুত্ব আছে। তখন সে আপনার প্রতিটি কথা মানসিক অবস্থার গুরুত্ব দেবে। শিশুকে মানুষের মত মানুষ করে তুলতে তার সুন্দর ব্যবহার সৎ চরিত্র বিকাশে সহায়তা করা উচিত। এতে শিশু বর্তমান ভবিষ্যৎ সময়ে বিপথগামী হবে না। তাই শিশুর সঠিক বিকাশে ছোট থেকেই সহায়তা করা উচিত বলে মনে করেন, এই অধ্যাপক

 

#শিশুকে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন করুন:

আপনি নিজের ব্যক্তিত্ব দিয়ে আপনার শিশুর মধ্যে ব্যক্তিত্ব আনুন। মুখ গোমরা করে রাখা, অন্যর সঙ্গে ঝগড়া করা, অন্যের ব্যাপারে নাক গলানো প্রভূতি বাজে অভ্যাস থেকে তাকে বিরত রাখুন। সে কোন কাজে ভুল করলে তা ধরিয়ে দিয়ে কিভাবে সংশোধন করতে পারে তা শেখান। সমবয়সীদের সঙ্গে 'হ্যালো'বলে শুভেচ্ছা বিনিময়, বয়স্কদের সঙ্গে সালাম দেয়া, ভুল করলে 'দুঃখিত' বলে দুঃখ প্রকাশ করা প্রভূতি আদব-কায়দা তাকে শিখিয়ে দিন। পোশাকের পরিচ্ছন্নতার সম্পর্কে তাকে সচেতন করুন। তার সোয়া, উঠা-বসা কেমন হবে তাকে তা শেখান।

#শিশুকে সহনশীল হতে সেখান:

আপনার স্কুল পড়ুয়া ছেলে আপনাকে এসে বলল, তার বন্ধু তাকে মেরেছে, আপনি সে ক্ষেত্রে বলতে পারেন। তুমি নিশ্চয়ই এমন কিছু করেছ যা তাকে প্ররোচিত করে তুলেছিল তোমাকে মারতে। আপনার শিশুকে আপনি সহনশীল হতে শেখান। সে যদি কারও সঙ্গে অসদাচরণ করে তাকে তা বোঝান। তাকে সব সময় মাথা ঠান্ডা রাখতে বলুন।তার কাছ থেকে যেন অন্যরা শিখতে পারে সে ব্যাপারে তাকে জ্ঞান দিন। আপনার সমর্থন আপনার সন্তানদের শান্ত রাখবে। যখন তারা জানবে আপনি তাদের পাশে আছেন, তারা চমৎকার অনুভূতি অনুভব করবে।

আগের দিনের একটি কথা প্রায়ই শোনা যেত," বাবা ভালো যার ছেলে ভালো তার, মা ভালো তার ঝি , গাই ভালো যার দুধ ভালো তার দুধ ভালো তার ঘি,

বাবা মা যেমন হবে সন্তান ঠিক তেমনি হবে প্রোডাকশন অফ হাউস।আসুন না ভালো কিছু অভ্যাস এর মাধ্যমে নিজেকে একটু পরিবর্তন করে সন্তানদের কাছে তাদের আইডল হিসেবে পরিচিত হই।