health

[health][bsummary]

vehicles

[vehicles][bigposts]

business

[business][twocolumns]

চুলের যত্নে কার্যকরী টিপস

  

স্নিগ্ধ মায়াবী চেহারার অধিকারী যে নারী। সব রূপেই নিজেকে দারুনভাবে ফুটিয়ে তুলে সে.. নারীর রূপ প্রকাশ পায় তার সৌন্দর্য্যে আর ঠিক তেমনি সৌন্দর্য প্রকাশ পায় চুলে।

             "বেনীর ভাঁজে 
                  আলতো হাওয়া,
                       জাগায় মনে 
                             প্রেম শিহরণ"
                             আমরা যখনই কোনো ডিজনি সিনেমার রাজকন্যাকে দেখি, তাদের অপরূপ চুল থেকে দৃষ্টি সরানো কষ্টকর হয়ে যায়। এমন চুলের অধিকারী হয়ে সিন্ডারেলা,স্নো হোয়াইট অথবা জেসমিন সাজতে যে কেউই চাইবে কিন্তু তার জন্য তো দরকার সুস্থ এবং উজ্জ্বল চুল।
আমাদের দেশে আবহাওয়ার বর্তমান যে অবস্থা তাতে তো চুলকে সুস্থ রাখতে পারাটা একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ।
চলছে আমাদের স্বাস্থ্যের একটা বড় অংশ এটা আমরা অনেকেই ভুলে যাই। চুলের ওপর নির্ভর করে আমাদের সুস্থতা। চুল যদি ভালো না থাকে পুরো মুখবয়বই হয়ে যাবে রুগ্ন। তাই দেহের জন্য যেমন দরকার "রাইডন্দ-দ্য-ক্লক"যত্ন, দেখভাল আর প্রয়োজনীয় সচেতনতা।
তবে চুলের দেখভাল আর যত্ন নেয়া মানেই কিন্তু দামিশ্যাম্পু আর তেল ব্যবহার করা নয়। চুলের জন্য দরকার সুশৃংখল ডায়েট, চুলের ধরন বুঝে প্রসাধনী ব্যবহার এবং নিয়মিত পরিচর্যা।

চুলে সুস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান একটি সুপরিকল্পীত ব্যালেন্স ডায়েট।যেখানে থাকবে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বিশেষ করে ভিটামিন ই এবং মিনারেল। চুলপড়ার হ্রাস, চুলে গ্রহ এবং উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য কিছু খাবার আছে যা নিয়মিত গ্রহণে চুল থাকে সুস্থ ।এসব খাদ্যগুলো হলো সবুজ  শাক-সবজি , ডিম, বাদাম, মাছ ইত্যাদি। চুলের গ্রোথ এর জন্য প্রয়োজন প্রোটিন, ফ্যাট, জিন্ক, মসুর, রাজমা, ছোলা ইত্যাদি ডাল ও খেতে পারেন।

রোজ তেল আর শ্যাম্পু ব্যবহার না হলে বিউটি পার্লারে হেয়ার স্পা হেয়ার প্যাকে ও ফলাফল শূন্য। ঠিক কি কারণে এমনটা ঘটছে বুঝে উঠতে পারছেন না? তাহলে মাথা ঠান্ডা করে একটু ভাবুন। আপনার সাধের চুল ঠিকঠাক পুষ্টি পাচ্ছে তো?গাছ যেমন শিকড় দিয়ে মাটি থেকে জল শুষে খাবার পায়, চুল ও তেমন চুলের গোড়া থেকে খাবার পায়।তাই জরুরি হলো চুলের বৃদ্ধি বা গ্রোথ যেন ভালো হয় এর ব্যবস্থা করা। এজন্য শুধু বাইরের ট্রিটমেন্ট সমাধান নয়। ভেতর থেকেও প্রয়োজন পুষ্টিকর খাবার।

ত্বকের খুঁত আপনি মেকআপ দিয়ে ঢেকে ঢুকে রাখতে পারবেন। কিন্তু চুলের কোন সমস্যা তৈরি হলে বা একবার পাতলা হতে আরম্ভ করলে পুরনো স্বাস্থ্য ফিরিয়ে নিয়ে আসা খুব মুশকিলের ব্যাপার। চুল ভালো রাখার জন্য তেল মাখা, সেরা মানের শ্যাম্পু কন্ডিশনার ব্যবহার, নিয়মিত স্পা করার পাশাপাশি সঠিক ডায়েট মেনে চলাও একান্ত প্রয়োজন।

চুল পড়ে যাচ্ছে! জৌলুসভা হারাচ্ছে রুক্ষতায়! মনে হচ্ছে চুলের তেলের বিজ্ঞাপন? নাহ, অযত্নে এবং অবহেলা আমাদের আদরে চুলগুলো হাল ঠিক এমনটাই হয়। চুলকে শুধু সৌন্দর্য একটি অংশ না ভেবে সুস্থ দেহের একটি অংশ ভাবলে তার বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি বাড়াবে মানসিক প্রশান্তি ও।

চুলের বৃদ্ধি ধরে থাকতে শুধু নয় চুলের আগা ফাটা,চুল পড়া বন্ধ করতেও খুব দরকারি হলো ভিটামিন সি আর এর শতভাগ পূর্ণ করতে সাহায্য করবে গোলমরিচ। এবং চুলে ভিটামিন ই সরবরাহ করতে চোখ বন্ধ করে আভাকোডা খেতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে যে 'ভিটামিন ই'নিলে চুলের গ্রোথ ৩৪.৫ % মত বেড়ে যায় ।এটি চুলের ফলিকল শক্ত করে।
চুলের ফলিকল গঠনকারী প্রোটিন তাইতো সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য প্রোটিনের জোগানটা অব্যাহত রাখা একান্ত প্রয়োজনীয়। প্রোটিনের অভাব হলেই গোড়া থেকে আলগা হয়ে চুল পড়তে আরম্ভ করে। মাথার তালুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রয়োজন হল জিন্ক, আয়রন ভিটামিন বি এর। ভিটামিন এ আর সি স্ক্যাল্পে অক্সিজেনের পরিমাণ অব্যাহত রাখে।

#কেন চুলের সুস্থতার জন্য প্রোপার ডায়েট প্রয়োজন?

চুল যদি শরীর থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগার করতে না পারে তাহলে চুলের স্বাস্থ্য খারাপ হতে থাকে। চুলে সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রপার ডায়েট ম্যান্ডেটরি। অনেকে অভিযোগ করে থাকেন জেনেটিক্যালি সুন্দর চুল নিয়ে জন্মালেও একটা সময় এসে চুল লালচে হয়ে যাচ্ছে ,আগা ফেটে যাচ্ছে।আবার অনেকেই হেয়ার কেয়ার এর ব্যপারে খুব সচেতন দামি প্রোডাক্ট দিয়ে চুলের যত্ন নেন, নিয়ম মতো প্যাক লাগান,। তারপরও চুল প্রাণহীন অকালেই পেকে যাচ্ছে বা চুল পড়ে যাচ্ছে। মেইন প্রবলেমটা কোথায় সেটা বুঝতে পারছেন কি? পুষ্টিহীনতা! নিউট্রিয়েন্টের  অভাবে চুল দুর্বল হয়েছে এবং বাইরে থেকে দেখতে মলিন লাগে।

#চুলের সুস্থতার জন্য খাদ্য উপাদান এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে এবং রেগুলার ডায়েটে কোন খাবারগুলো অবশ্যই রাখা উচিত??

ডিম তো সবারই প্রিয়। প্রতিদিন একটা ডিম খেয়ে নিন। ডিমে থাকা বায়োটিন চুলের আগা ফাটা রিপেয়ার করে। গোড়ায় গিয়ে চুলের পুষ্টি জোগায়। চুলকে ঝলমলে করে গড়ে তুলতে কাজু, পেস্তা, আমন্ড বা আখরোট যে কোন মাদামই খেতে পারেন। চুলের স্বাস্থ্য ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন বিনস মটরশুঁটি খেতে পারেন।এছাড়া চুলকে ভিতর থেকে মজবুত রাখার জন্য বেশি বেশি মিষ্টি আলু খেতে পারেন। মিষ্টি আলু খেতে যতটা মিষ্টি ততটাই কাজেরও। এর বিটা ক্যারোটিন চুলের নতুন কোষ জন্মাতে সাহায্য করে ।
আপনার স্বাস্থ্য আপনার চুলে প্রতিফলিত হয়। আপনি স্বাস্থ্যকর থাকলে ভালো থাকবে চুল। তাই সুন্দর চুল রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া আবশ্যক। আর তাই আপনার চুলের বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যর জন্য ভিটামিন, প্রোটিন এর মত পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত গ্রহণ করুন।
বেশি বেশি প্রোটিন জাতীয় শাকসবজি চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে এছাড়াও প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। সুন্দর চুলের জন্য যে খুব ব্যয়বহুল লাইফ স্টাইল অথবা প্রোডাক্টস ব্যবহার করতে হয় এমনটা কখনই নয়। শুধু প্রয়োজন নিয়মিত পরিচর্যা আর প্রয়োজন সঠিক পুষ্টির। বেশি চিনি খাবেন না অতিরিক্ত প্রসেসড বা তথাকথিত ফ্যান্সি খাবার ও স্বাস্থ্যের পক্ষে খুব একটা ভালো নয়।

#চুল সুরক্ষিত রাখুন:

সব সময় চেষ্টা করা উচিত চুলকে সূর্যের আলো, রোদ ,বৃষ্টি থেকে সুরক্ষিত রাখা।সূর্যের কড়া রোদ ,ধুলাবালি ইত্যাদি চুলের দুর্দশা ডেকে আনে!
ধীরে ধীরে এরা জমাটবাঁধা শুরু করে চুলের গোড়াতে এবং ফলাফল স্বরূপ শুরু হয় । চুল পড়া নিয়ে ঝামেলা গুলো থেকে রেহাই পেতে খোলা আকাশের নিচে রোদ কিংবা বৃষ্টিতে চলাচলের সময় ছাতা অথবা ক্যাপ পরা উচিত। এমনকি কাপড় কিংবা ওড়না দিয়ে ঢেকে রাখলেও অনেকাংশে চুল সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

#ভেজা চুল কে সাবধানে ট্রিট করুন:

ভেজা চুল সবথেকে ভঙ্গুর অবস্থায় থাকে।ভেজা অবস্থায় থাকাকালীন সময়ে চুলের গোড়া থেকে চুল ভেঙে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ তাই শ্যাম্পু করার সময় চুল বেশি চাপ প্রয়োগ করা উচিত নয় ।এছাড়াও গোসলের পর পরই চুলে চিরুনি ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত।

#তেল দিন নিয়মিত:
চুলে নিয়মিত তেল ব্যবহারে শক্ত হয় চুলের গোড়া তবে তা যেন আবার অতিরিক্ত না হয়ে যায়।অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করলে তা মুছে ফেলতে ব্যবহার করতে হবে অতিরিক্ত শ্যাম্পু চুলের জন্য ভালো নয়।

সঠিকভাবে শ্যাম্পু করুন সপ্তাহে ৩/৪ দিন ভালো শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করুন। নিয়মিত কন্ডিশনার ব্যবহার করুন এতে চুল মসৃণ হয় ফলে ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়। একই ধরনের হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন।চুলের যত্ন নেয়ার সময় একই কোম্পানির অনুরূপ উপাদান তৈরী প্রোডাক্ট ব্যবহার করা উচিত। এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই আপনার চুলের যত্ন নিতে পারবেন। অতিরিক্ত হিট দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। অতিরিক্ত হিটের কারণে চুল চলে যেতে পারে তাই ব্লোয়ার আয়রন অথবা চুল স্ট্রেটনার যদি ব্যবহার করতেই হয় তাহলে সাবধানতার সাথে তা করা উচিত।অনেকেই চুলকে মোছার সময় খুব চাপ প্রয়োগ করে চুল মুছে থাকে এতে বারবার ঘর্ষণের ফলে চুল তার সুস্থতা হারিয়ে ফেলে গোড়া থেকে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ভালো বালিশের কভার ব্যবহার করুন।

শুনতে একটু আশ্চর্য লাগলেও এ কথা 100% সত্যি যে নিয়মিত ব্যায়াম করলে চুল ভালো থাকে।তাই স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুলের মালিক হওয়ার জন্য ডিসিপ্লিন মেনে চলুন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন